‘ডেটার ওপর কোনো বাধা নয়’
বিকাশমান টেলিযোগাযোগের শক্তিতে বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবার সম্পসারণ নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক করলো বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিউনিকেশন (বিটিআরসি) সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকায় অবস্থিত বিটিআরসি ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই গোলটেবিল আলোচনায় দেশের বিকাশমান ডিজিটাল সেবা উদ্যোগ, বিডিজবস, চালডাল, টেন মিনিটস স্কুল, পাঠাও, শেয়ার ট্রিপ, শপআপ, প্রাভা হেলথ, সহজ, শিখো, ই-কুরিয়ার, পিকাব, সেবা এক্সওয়াইজেড প্রতিষ্ঠাতারা উপস্থিত ছিলেন।
মূল প্রবন্ধে চালডাল প্রতিষ্ঠাতা সিইও ওয়াসিম আলিম জানালেন, জিডিপি ও মুদ্রস্ফিতির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করার কিছু নেই। ভূমি, জিডিপির আকার এবং জনঘনত্বের ওপর নির্ভর করে জাপানের সঙ্গে তুলনা করে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় ২০৪০ সালের মধ্যে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি’র আকার হাতে পারে। এজন্য অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ হলেও এক্ষেত্রে মূল্য ও সময়ে আমরা পিছিয়ে। কিন্তু জনশক্তিতে আমরা এগিয়ে আছি। কিন্তু এটা আমাদের জন্য টাইম বোমের মতো। তাই ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের ই-কমার্স বাজারে পিছিয়ে আছি। ভারত বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় সাত গুণ বড়। এই অবস্থার উন্নয়নে ডেটা বা ইন্টারনেট ব্যবহারের বিকল্প নেই। ডেটার ব্যবহার অবকাঠামো খরচ বাঁচায়। শিক্ষা অর্জনকে সহজতর করে কর্মহীনদের কর্মক্ষম করে তোলে। তাই ডেটার ওপর কোনো বাধা থাকা উচিত নয়।
ডেটার ব্যবহার অবকাঠামো খরচ বাঁচায় : মাসে ১০ টাকায় ২ জিবি ইন্টারনেটের দাবি
১২৫ কিলোবাইট ডেটা ব্যবহার করার পরিবর্তে কেউ যদি মাসে ১জিবি ডেটা ব্যবহার করে তবেই তাকে সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসেবে গণ্য করা উচিত। ভারতে ১০ মিনিটে ১জিবি ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও বাংলাদেশ এই সংখ্যায় অনেক পিছিয়ে। বাংলাদেশের চেয়ে ভারত ১০০০ গুণ বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ডেটার দাম বেশি হওয়ার কারণে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তাই সবগুলো মোবাইল অপারেটরের উচিত ১০ টাকায় ১ মাসের জন্য ২জিবি ডেটা অফার করা। এজন্য অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন লেয়ার তুলে নেয়া ও ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া দরকার।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারীর সভাপতিত্ব গোলবেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। বিটিআরসি’র সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের কমিশনার ব্রিগেডিয়ার মোঃ খলিল উর রহমানের সঞ্চালনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কমিশনার ও পরিচালকেরা ছাড়াও মোবাইল অপারেটর ও ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মোবাইল অপারেটরদের পাশাপাশি এখন থেকে কন্টেন্টের সঙ্গে জড়িততের আমন্ত্রণ জানানোয় বিটিআরসি-কে ধন্যবাদ জানিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্স সদস্য এবং বিডিজবস প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর বলেন, আমদের ক্রয় ক্ষমতার চেয়ে ডাটার দাম বেশি। তাই ব্রডব্যান্ডের মতো মোবাইল ইন্টারনেটেরও দাম বেধে দেয়া দরকার। বিটিআরসি’র রেভিনিউ শেয়ার ও এসএফও ফান্ডের বিষয় পুণর্বিবেচনা করতে হবে। অন্তত দুই বছর এসওএফ ফান্ড বন্ধ রাখা দরকার। গুগল, ফেসবুক ও আকামাই যেন দেশে আসে সে জন্য কন্টেন্টের দায় শুধু কন্টেন্টদাতার ওপর রাখতে হবে। একইসঙ্গে বন্ধ করে দেয়া হোক এনটিটিএন। একই সঙ্গে বিগত সময়ে যেসব প্রতিষ্ঠানকে বেআইনি সুবিধা দিয়ে জায়ন্ট করা হয়েছে তাদের বিষয়ে এখনই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।







